পঞ্চাশ বছর পর মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতি বিজড়িত বধ্য ভূমির স্মৃতি ফলক চিরঞ্জীব উদ্বোধন

0
62

সমরেন্দ্র বিশ্বশর্মা, কেন্দুয়া (নেত্রকোণা) প্রতিনিধি : ১৯৭১ সনের মহান মুক্তিযুদ্ধের সময় জুলাই আগস্ট মাসে কেন্দুয়া উপজেলা সদরের ভূমি অফিসের সামনের পুকুরের উত্তর পাশে ভরাট হয়ে যাওয়া রাজ রাজেশ্বরী নদীর তীরে পাক হানাদার বাহিনীর গুলিতে নির্মম ভাবে নিহতদের লাশ এনে ফেলে রাখা হত। ওই স্থানে কালের সাক্ষী হিসাবে শতবর্ষী একটি তেতুল গাছ এখনও আছে, তবে ডাল পালা শুকিয়ে গেছে। ওই গাছের নিচেই লাশের উপর লাশ স্তুপাকারে ফেলে রাখা হত। এখানে থেকেই পঁচে গলে লাশ বিলিন হয়েছে। খেয়েছে শেয়াল কুকুরেও।
স্থানীয় মুক্তিযোদ্ধা সংসদ ও মুক্তিযুদ্ধ প্রজন্মের দীর্ঘ দিনের দাবীর প্রেক্ষিতে ৫০ বছর পর শুভ উদ্বোধন হলো মহান মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতি বিজড়িত বধ্য ভূমির স্মৃতি ফলক চিরঞ্জীব। গত ২৭ আগস্ট শুক্রবার ঠিক সকাল ৯ টায় উপজেলা ভূমি অফিসের উত্তর পাশে নির্মিতব্য এ স্মৃতি ফলক “চিরঞ্জীব” এর শুভ উদ্বোধন ও ভিত্তি প্রস্তর স্থাপন করেন, বাংলাদেশ আওয়ামীলীগের সংস্কৃতি বিষয়ক সম্পাদক নেত্রকোণা-৩ (কেন্দুয়া-আটপাড়া) নির্বাচনী এলাকার সংসদ সদস্য অসীম কুমার উকিল। উদ্বোধনকালে তিনি বলেন, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মজিবুর রহমান চেয়েছিলেন, মহান মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় একটি সুন্দর বাংলাদেশ। আসুন সবাই মিলে শেখ হাসিনার নেতৃত্বে মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় সকলের একটি সোনার বাংলাদেশ গড়ে তুলি। এ সময় উপস্থিত ছিলেন, উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মোঃ নূরুল ইসলাম, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ মইন উদ্দিন খন্দকার, উপজেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি এডভোকেট আব্দুল কাদির ভূঞা, বিদায়ী সহকারি কমিশনার (ভূমি) মোঃ খবিরুল আহসান, ওসি কাজী শাহ নেওয়াজ, মুক্তিযোদ্ধা উপজেলা কমান্ডের সাবেক কমান্ডার গোলাম জিলানী, সাবেক কমান্ডার মোঃ বজলুর রহমান, ও ডেপুটি কমান্ডার আব্দুল কদ্দুস খন্দকার লালচান।
স্থানীয় প্রত্যক্ষদর্শী মোঃ আশরাফ উদ্দিন ভূঞা জানান, ১৯৭১ সনের জুলাই আগষ্ট মাসে ওই তেতুল গাছটির নিচে লাশের পর লাশ স্তুপাকারে পরে থাকতে দেখেছি। এখানে থেকেই লাশ পচে গলে নষ্ট হয়েছে। অনেক সময় শেয়াল কুকুরকে কামড়া কামড়ি করতে দেখেছি। তিনি আরো বলেন, থানার ভেতর যাদেরকে ধরে এনে পাক হানাদার বাহিনী গুলি করে নিষ্ঠুর ভাবে হত্যা করেছে, তাদের লাশ এবং অন্য স্থান থেকেও লাশ এনে এখানেই ফেলে রাখা হয়েছে। চিরঞ্জীব স্মৃতি ফলক নির্মিত হওয়ায় মুক্তিযুদ্ধের সঠিক ইতিহাস সংরক্ষিত হল।
উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডের সাবেক কমান্ডার মোঃ বজলুর রহমান বলেন, মুক্তিযুদ্ধের সঠিক ইতিহাস সংরক্ষনে বধ্য ভূমির স্মৃতি ফলক চিরঞ্জীব নির্মানের জন্য উপজেলা প্রশাসন ও পরিষদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানাচ্ছি। তিনি বলেন, নতুন প্রজন্ম এর মাধ্যমে মুক্তিযুদ্ধের সঠিক ইতিহাস জানতে পারবে। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ মইন উদ্দিন খন্দকার বলেন, জেলা প্রশাসক কাজী মোঃ আবদুর রহমানের পরিকল্পনায় ও উপজেলা পরিষদের অর্থায়নে নির্মিতব্য মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতি বিজড়িত স্মৃতি ফলক “চিরঞ্জীব” ৫০ বছর পর হলেও মুক্তিযুদ্ধের সঠিক ইতিহাস সংরক্ষনের জন্য এটি একটি জলন্ত সাক্ষি হয়ে থাকবে চিরদিন।

Print Friendly, PDF & Email

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here