নৌ-বিমানবাহিনী ও কোস্টগার্ড নামল সিলেটে বন্যা মোকাবিলায়

0
35

আরবান ডেস্কঃ সিলেটে বন্যা পরিস্থিতি ক্রমেই আরও ভয়াবহ রূপ নিচ্ছে। নদ-নদীর পানি বাড়ার কারণে নতুন নতুন এলাকা প্লাবিত হচ্ছে। পুরো জেলাজুড়ে চলছে হাহাকার। বন্যা কবলিত বেশির ভাগ উপজেলায় পা রাখার মতো শুকনো মাটি নেই।
এরই মধ্যে পানিবন্দী মানুষকে আশ্রয়কেন্দ্রে আনতে উদ্ধারকাজে নামানো হয়েছে সেনাবাহিনী। এর সঙ্গে আজ শনিবার সকাল থেকে উদ্ধারকাজে নৌ, বিমানবাহিনী ও কোস্টগার্ডকে যুক্ত করা হয়েছে।
নৌ, বিমানবাহিনী ও কোস্টগার্ডের উদ্ধারকাজে যোগ দেওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন সিলেটের জেলা প্রশাসক মো. মজিবর রহমান।
জেলা প্রশাসক বলেন, নৌবাহিনীর ৩৫ সদস্যের একটি টিম সিলেটে এসে পৌঁছেছে। বিকেলে ৬০ জনের আরেকটি টিম আসবে। কোস্টগার্ডের ২টি ক্রুজ উদ্ধারকাজে অংশগ্রহণ করবে। এর মধ্যে একটি যাবে সুনামগঞ্জে, আরেকটি সিলেটে কাজ করবে। এ ছাড়া বিমানবাহিনীর ২টি হেলিকপ্টারও যোগ দেবে উদ্ধারকাজে।
মজিবর রহমান জানান, এরই মধ্যে নৌবাহিনীর একটি দল সিলেট সদর উপজেলার জালালাবাদ ইউনিয়নে এবং কোম্পানীগঞ্জের দিকে রয়েছে। এ ছাড়া সেনাবাহিনী সিলেট সদর, কোম্পানীগঞ্জ ও গোয়াইনঘাটে উদ্ধারকাজে নিয়োজিত রয়েছে।
বন্যা পরিস্থিতির ভয়াবহ অবনতি হওয়ায় স্থানীয় প্রশাসনের পক্ষে উদ্ধারকাজ চালানো প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়ে। এই অবস্থায় শুক্রবার সকালে উদ্ধারকাজসহ সার্বিক সহযোগিতার জন্য সেনাবাহিনীর সহযোগিতা চান জেলা প্রশাসক মো. মজিবর রহমান। জেলা প্রশাসকের লিখিত আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে গতকাল শুক্রবার দুপুর থেকে সিলেট ও সুনামগঞ্জের ৮টি উপজেলায় সেনাবাহিনীর ১০টি টিম কাজ শুরু করেছে। ‘রেসকিউ বোট’ দিয়ে তারা গ্রামে গ্রামে গিয়ে পানিবন্দী মানুষকে উদ্ধার করে নিয়ে আসছে।
সিলেট সেনানিবাসের অধিনায়ক মেজর জেনারেল হামিদুল হক জানান, সিলেট ও সুনামগঞ্জ জেলায় বন্যা পরিস্থিতির অবনতি হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে সিলেটের ৩ উপজেলা ও সুনামগঞ্জের ৫ উপজেলায় সেনাবাহিনী পানিবন্দী মানুষকে উদ্ধারসহ পাঁচটি কাজে তৎপরতা শুরু করেছে। সিলেটের উপজেলাগুলো হচ্ছে—সদর, গোয়াইনঘাট ও কোম্পানীগঞ্জ, সুনামগঞ্জ জেলার সদর, দিরাই, ছাতক, দোয়ারাবাজার ও জামালগঞ্জ।
মেজর জেনারেল হামিদুল হক বলেন, সিলেট কুমারগাঁও বিদ্যুৎকেন্দ্রে পানি উঠে বিদ্যুৎ সরবরাহ হুমকির মুখে পড়েছে। এ ছাড়া সুনামগঞ্জের বেশ কয়েকটি খাদ্য গুদাম হুমকিতে রয়েছে। এগুলো রক্ষায়ও সেনাসদস্যরা কাজ করছেন।
বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড সিলেটের প্রধান প্রকৌশলী মো. আব্দুল কাদির বলেন, ‘২৯ বছর ধরে এখানে চাকরি করছি। এমন বন্যা কখনো দেখিনি। কখনই কুমারগাঁও গ্রিড লাইনে পানি ওঠেনি। এবারের পানি ভয়ংকর।

Print Friendly, PDF & Email

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here