নেত্রকোনায় বন্যা পরিস্থিতির অবনতি : রেলওয়ে ব্রীজ ধ্বসে পড়ায় রেল যোগাযোগ বন্ধ

0
58

এ কে এম আব্দুল্লাহ্ , নেত্রকোনা প্রতিনিধি : টানা ৩ দিন ধরে অব্যাহত ভারি বৃষ্টিপাত ও উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে নেত্রকোনা জেলার ৬টি উপজেলার ৩৯টি ইউনিয়ন বন্যা কবলিত হয়েছে। পানির প্রবল তোড়ে মোহনগঞ্জ-ময়মনসিংহ রেলপথের ইসলামপুর নামক স্থানে রেল ব্রীজ ভেঙে গিয়ে রেল যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে।
স্থানীয় এলাকাবাসী ও প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, টানা ৩ দিন ধরে অব্যাহত ভারি বৃষ্টিপাত ও উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে নেত্রকোনা জেলার বেশীর ভাগ নদ-নদীর পানি বৃদ্ধি পেয়ে বন্যা পরিস্থিতির চরম অবনতির দিকে ধাবিত হচ্ছে। পানি উন্নয়ন বোর্ড সূত্রে জানা যায়, জেলার প্রধান নদ-নদী সোমেশ্বরী, কংশ, মগড়া, উব্দাখালী ও ধনু নদীর পানি বিপদসীমার অনেক উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।
মোহনগঞ্জ রেলস্টেশনের জিআরপি ফাঁড়ি’র ইনচার্জ জানান, শনিবার সকাল সাড়ে সাতটার দিকে পানির প্রবল স্রোতে মোহনগঞ্জ-ময়মনসিংহ রেলপথের ইসলামপুর নামক স্থানে ব্রীজের দুই পাশে মাটি ধ্বসে গিয়ে ব্রীজ ভেঙ্গে যাওয়ায় সারাদেশের সাথে এ রেলপথে ট্রেন যোগাযোগ বন্ধ হয়ে গেছে। ‘হাওড় এক্সপ্রেস’ ট্রেনটি মোহনগঞ্জে আটকা পড়েছে। ফলে এ রেলপথে যাতায়াতকারী যাত্রীরা চরম বিপাকে পড়েছে।
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, জেলায় বিভিন্ন উপজেলায় শনিবার পর্যন্ত প্রায় ৪ শত ৭৩ হেক্টর জমির আউশ ধান ও নানা ধরনের সবজি ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে। জেলা মৎস্য অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, বন্যায় সহস্রাধিক পুকুর তলিয়ে লক্ষ লক্ষ টাকার মাছ ভেসে গেছে। জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস সূত্রে জানা যায়, বন্যায় প্রায় ৫ শতাধিক বিদ্যালয়ে পানি ঢুকে পড়েছে।
নেত্রকোনা জেলা বন্যা নিয়ন্ত্রণ কন্ট্রোল রুম সূত্রে জানা যায়, নেত্রকোনা জেলায় এ পর্যন্ত বন্যা দূর্গত মানুষদের জন্য ১৮৮টি আশ্রয় কেন্দ্র খোলা হয়েছে। এ সব আশ্রয় কেন্দ্রে প্রায় ১৬,১৮০ জন মানুষ আশ্রয় নিয়েছে।
নেত্রকোনার জেলা প্রশাসক অঞ্জনা খান মজলিশ শনিবার ট্রলারে করে নেত্রকোণা সদর উপজেলার বন্যা কবলিত বিভিন্ন ইউনিয়ন ও আশ্রয় কেন্দ্র পরিদর্শন করেন। তিনি এ সময় বানবাসী মানুষের দুর্ভোগ দুর্দশার কথা শুনে ক্ষতিগ্রস্থ লোকজনের মাঝে নগদ অর্থ, শুকনো খাবার ও ত্রান সামগ্রী বিতরণ করেন। এছাড়াও স্থানীয় প্রশাসন, জন প্রতিনিধি ও রেডক্রিসেন্ট সদস্যদেরকে প্রয়োজনীয় সাহায্য সহযোগিতার নির্দেশ প্রদান করেন।
এ ব্যাপারে নেত্রকোনার জেলা প্রশাসক অঞ্জনা খান মজলিশের সাথে যোগোযোগ করলে তিনি বলেন, বন্যা পরিস্থিতি পর্যালোচনার জন্য জেলা ও উপজেলায় কন্ট্রোল রুম খোলা হয়েছে। সেখান থেকে সার্বক্ষণিক বন্যা পরিস্থিতি খোজ খবর নেয়া হচ্ছে এবং প্রয়োজনীয় সাহায্য সহযোগিতা করা হচ্ছে। ইতিমধ্যে বন্যা কবলিত এলাকায় বিতরণের জন্য ৬৮ মেঃ টন চাল, ২ লক্ষ ৫০ হাজার টাকা ও ২ হাজার প্যাকেট শুকনো খাবার বরাদ্দ দেয়া হয়েছে।

Print Friendly, PDF & Email

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here