Home নগর সংবাদ নামেই শুধু রাজধলা বিল পর্যটন পার্ক

নামেই শুধু রাজধলা বিল পর্যটন পার্ক

মো: জায়েজুল ইসলাম: রাজধলা বিলকে কেন্দ্র করে গড়ে উঠা নেত্রকোনা জেলার পূর্বধলা উপজেলার রাজধলা বিল পর্যটন পার্ক শুধু নামেই পর্যটন পার্ক। শ্রান্তি ও বিনোদনের জন্য এখানে বিল ঘেষা সামান্য একটু রাস্তা ও একটি ঘাট ছাড়া আর কিছু নেই। অথচ রাজধলা বিল পর্যটন পার্ক হিসেবে এলাকার মানুষের জন্য বিনোদন উপযোগী করে তোলার নিমিত্তে ইতি মধ্যেই এখানে প্রায় আড়াই কোটি টাকার কাজ করা হয়েছে। কিন্ত দৃশ্যমান উল্লেখযোগ্য কোন কিছু না থাকায় জনমনে অসন্তোষ বিরাজ করছে। এখানকার দর্শনার্থীদের অভিযোগ রাজধলা বিল পর্যটন পার্ক নাম দিয়ে লুটপাটের মাধ্যমে এখান থেকে মোটা অংকের টাকা হাতিয়ে নিয়েছে সংশ্লিষ্টরা।  তাছাড়া অপরিকল্পিত ভাবে রাস্তা তৈরী করায় বিল ও বিলের জীববৈচিত্র এখন হুমকির মাঝে পড়েছে। 

পূর্বধলা উপজেলার সদরের প্রাণকেন্দ্র পূর্বধলা সরকারি কলেজের পাশেই রাজধলা বিল পর্যটন পার্কের অবস্থান। মূলত রাজধলা বিলকে কেন্দ্র করেই গড়ে উঠেছে এই পর্যটন পার্ক। এ বিলের সাথে পূর্বধলা উপজেলার ইতিহাস-ঐতিহ্যের রয়েছে নিবিড় সম্পর্ক। কথিত আছে এ বিলকে কেন্দ্র করেই এ এলাকায় এক সময় রাজ পরিবারের বসবাসের গোড়াপত্তন হয়েছিল। বিশাল জলরাশি সমৃদ্ধ এই বিলকে ঘিরে আশে পাশের অনেক গুলো পরিবার জীবন জীবিকা নির্বাহ করে আসছে। এ বিলের মাছ সুস্বাদু হিসেবে কদর রয়েছে সবার কাছে। শীতকালে অতিথি পাখীরা এসে বিলের গুরুত্ব আরো বাড়িয়ে তোলে অনেকাংশে।

সবদিক বিবেচনায় এনে দাবী উঠে এই বিলকে বিনোদনের কেন্দ্র হিসেবে পর্যটনের আওতায় নিয়ে আসার জন্য। তারই প্রেক্ষিতে পূর্বধলা উপজেলার রাজধলা বিল পর্যটন পার্ক  উন্নয়ন নামে বিনোদন কেন্দ্র হিসেবে প্রথম সরকারী বরাদ্দ দেওয়া হয় ২০১৪-২০১৫ অর্থবছরে। এডিপির সংরক্ষিত তহবিল থেকে ১কোটি ৪৭লক্ষ টাকার বরাদ্দ দেওয়া হয়। প্রকল্প কাজ বাস্তবায়নে নেত্রকোনা জেলা পরিষদ থাকলেও টিকাদারী প্রতিষ্ঠান হিসেবে কাজ করে অসীম সিংহ। এ টাকায় বিলের পাড় ঘেষে উভয় পাশে ব্লক বসিয়ে  পাকা নান্দনিক সড়ক নির্মাণ করা কথা থাকলেও শেষ পর্যন্ত পুরোটা আর করা হয়নি। কাজের মান নিয়ে জনমনে ছিল নানা প্রশ্ন।

বর্তমানে সড়কে গর্তসহ ভাঙ্গন সৃষ্টি হয়েছে। মাটি সড়ে গিয়ে পানির সাথে মিশে যাচ্ছে রাস্তা। একই সময়ে জেলা পরিষদ থেকে আরও ৬০লাখ টাকা বরাদ্ধ দেওয়া হয়। যা দিয়ে কলেজের পাশদিয়ে একটি ঘাট নির্মাণ করা হয়। এই ঘাটটিই এখন দর্শক পিয়াসী মানুষের একমাত্র সম্বল। পরে এলজিইডির বরাদ্ধকৃত ২৯লাখ টাকা ব্যায়ে দর্শনার্থীদের জন্য একটি টয়লেট ও উত্তর পাশে আরও একটি ঘাট নির্মান করা হলেও ঘাটটি কিছুদিন ব্যবহৃত হলেও টয়লেটটি শুরু থেকেই পরিত্যক্ত রয়েছে। সংযোগ রাস্তাটি ভেঙ্গে চলাচলে অনুপযোগী হয়ে রয়েছে। এখানে সরাকারিভাবে রাজধলা বিল পর্যটন পার্ক  উন্নয়নের জন্য মোটা অংকের টাকা বিনিয়োগ করা হলেও চোখের পড়ার মত কিছু হয়ে উঠেনি। এরপরও বিভিন্ন উৎসবের দিনগুলোতে একটু প্রশান্তি খোঁজতে এখানে মানুষের ঢল নামে। এখানে বিনোদনের বাড়তি কোন সুযোগ না থাকায় একটু ঠান্ডা বাতাস লাগিয়েই মনকে পরিতৃপ্ত করতে হয় দর্শনাথীদের। দর্শনার্থীদের অভিযোগ উন্নয়নের নামে এ প্রকল্প থেকে মোটা অংকের টাকা লুটপাট করা হয়েছে।

সচেতন মহলের মতে রাজধলা বিল পর্যটন পার্কের জন্য অপরিকল্পিতভাবে সড়ক নির্মাণের কারনে বিলের জীব বৈচিত্র এখন হুমকির মাঝে পড়েছে। বিলের কুচুরীপানা অপসারনের কোন ব্যবস্থা না থাকায় দিনদিন এর ঐতিহ্য নষ্ট হচ্ছে। পলি জমে ভরাট হয়ে গিয়ে চারদিকে জমির পরিধি ছোট হয়ে যাচ্ছে। রাজধলা বিল মৎস্যজীবি সমবায় সমিতির হিসাব অনুযায়ী এর আয়তন একশত ত্রিশ একর হলেও উপজেলা মৎস্য অধিদপ্তদের হিসাব অনুযায়ী এর আয়তন মাত্র ৪৭ একর। বিলের উত্তর পাশে গাছপালা লাগিয়ে স্থানীয় লোকজন ভোগ দখল করে আসছে। এই বিল থেকে প্রতিবছর মোটা অংকের রাজস্ব আদায় হলেও বিলের উন্নয়নের জন্য কার্যকরী কোন পদক্ষেপ না নেওয়ায় এলাকাবাসীর মনে অসন্তোষ বিরাজ করছে। তাদের দাবী পর্যটন পার্ক উন্নয়ন ও রাজধলা বিল দুটোর প্রতি উর্ধ্বতন মহলের নজরধারী কামনা করেন।

পূর্বধলা উপজেলার নির্বাচিত উপজেলা চেয়ারম্যান জাহিদুল ইসলাম সুজন বলেন, বিলের সৌন্দর্য্য বর্ধনে ইতিপূর্বে উপজেলা পরিষদের এডিপি’র বরাদ্দ থেকে দর্শনার্থীদের সুবিধার্থে ঘাট ও শৌচাগার নির্মানে বরাদ্দ দেয়া হয়েছিল। রাজধলা বিলের উন্নয়নে ভবিষ্যতেও উপজেলা পরিষদের পক্ষ থেকে সর্বপ্রকার সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে বলে তিনি মত প্রকাশ করেন। তিনি মনে করেন প্রাকৃতিক সৌন্দর্য্যের লীলাভূমি রাজধলা বিলের উন্নয়ন সারা দেশে পূর্বধলা উপজেলার সমৃদ্ধি প্রকাশে অবদান রাখতে সহায়ক হবে।
উপজেলা নির্বাহী অফিসার উম্মে কুলসুম এই প্রতিবেদককে জানান, রাজধলা বিলকে পর্যটনের আওতায় আনার জন্য উর্ধ্বধন মহলে প্রস্তাবনা পাঠানো হয়েছে।
সহকারি কমিশনার (ভূমি) নাসরিন বেগম সেতু বলেন, বিলের সরকারি অংশ কেউ যদি বেআইনীভাবে ভোগ করে তাহলে খোঁজ নিয়ে তাদের বিরুদ্ধে আইনী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
পূর্বধলা প্রেসক্লাবের সভাপতি সৈয়দ আরিফুজ্জামান বলেন, এতদঞ্চলে রাজধলা বিল শুধু নামেই একটি ঐতিহ্যবাহী দর্শনীয় স্থান নয় আবহমান কাল থেকে এর সাথে জড়িত রয়েছে অনেক মীথ ও মজাদার গল্প। রাজধলা বিল দর্শনে ছুটে আসেন দেশের নানান প্রান্ত থেকে নানা পেশার মানুষ। পর্যটন কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তুলতে হলে এটিকে অবশ্যই পরিকল্পিতভাবে বাংলাদেশ পর্যটন কর্পোরেশনের আওতায় উন্নয়ন কর্মকান্ড প্রণয়ন করতে হবে। উন্নয়নের নামে অপরিকল্পিত কার্যক্রম অদূরভবিষ্যতে এর ঐতিহ্য, সৌন্দর্য্য ম্লান ও হুমকির সম্মুখিন হতে পারে।

Print Friendly, PDF & Email
syed arifuzzamanhttp://www.arban.org.bd/
Md. Syed Arifuzzaman working as social worker and founder of Arban-Activity for the reformation of basic needs. My goal to help underprivileged people to aware about good health, quality education and importance of technical education.

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- বিজ্ঞাপন-

জনপ্রিয় সংবাদ

দুর্গাপুরে নিজেই প্রতিমা গড়ে মন্ত্র বলে দূর্গাপূজা করেন কিশোর নির্মাণ দত্ত

নির্মলেন্দু সরকার বাবুল, দুর্গাপুর (নেত্রকোনা) প্রতিনিধি : নেত্রকোনার দুর্গাপুর উপজেলায় কোন প্রশিক্ষণ ও ওস্তাদের সাহায্য ছাড়াই প্রতিমা তৈরী করে এলাকায় ব্যাপক সাড়া...

পূর্বধলায় গণমাধ্যমকর্মীদের নিয়ে সুশাসনের জন্য কৌশলগত যোগাযোগ শীর্ষক অনলাইন কর্মশালার উদ্বোধন

সুহাদা মেহজাবিন : নেত্রকোনার পূর্বধলায় আজ শুক্রবার (২৩ সেপ্টেম্বর) জাতীয় গণমাধ্যম ইনস্টিটিউটের উদ্যোগে নেত্রকোণা জেলার পূর্বধলা উপজেলায় কর্মরত ইলেকট্রনিক ও প্রিন্ট মিডিয়ার...

মাদকাসক্ত যুবকের এক বছরের জেল দিলেন ভ্রাম্যমান আদালত

সমরেন্দ্র বিশ্বশর্মা, কেন্দুয়া (নেত্রকোনা) প্রতিনিধি : নেশার টাকা না পেলেই মা বাবাকে অত্যাচার নির্যাতন করত মাদকাসক্ত যুবক হৃদয় মিয়া (২৪)। ছেলের অত্যাচার...

আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে কায়সারের মৃত্যু পরোয়ানা

আরবান ডেস্ক: একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধের সময় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে জাতীয় পার্টির (জাপা) নেতা ও সাবেক প্রতিমন্ত্রী সৈয়দ মোহাম্মদ কায়সারের মৃত্যু পরোয়ানা আন্তর্জাতিক...

মতামত

Print Friendly, PDF & Email