Home বাংলাদেশ নরসিংদীর বিভিন্ন উপজেলায় জমে উঠেছে কোরবানির পশুর হাট।

নরসিংদীর বিভিন্ন উপজেলায় জমে উঠেছে কোরবানির পশুর হাট।

নিজস্ব প্রতিনিধি: আসন্ন ঈদুল আযহা উপলক্ষে নরসিংদীর বিভিন্ন উপজেলায় জমে উঠেছে কোরবানির পশুর হাট। ঈদ যতো এগিয়ে আসছে, ততই বাড়ছে বেচা-কেনা। ক্রেতাদের পাশাপাশি হাটগুলোতে ভিড় করছেন বিভিন্ন জেলা থেকে আসা ব্যাপারিরাও।
নরসিংদী জেলার প্রধান পশুর হাটগুলো হচ্ছে-নরসিংদী সদর উপজেলার করিমপুর, শিবপুরের পুটিয়া, যোশর বাজার, গড়বাড়ী বাজার ও শিবপুর সদর বাজার। মনোহরদীতে বাসস্ট্যান্ড বাজার, হাতিরদিয়া ও চালাকচর বাজার। বেলাবোতে সদর বাজার, নারায়ণপুর বাজার, দক্ষিণ বটেশ্বর বাজার ও পোড়াদিয়া বাজার। রায়পুরায় শ্রীরামপুর বাজার, মৌলভী বাজার, জংগী শিবপুর, রামনগর (শুক্কুইরা বাজার), রাধাগঞ্জ, বাইশমৌজা ও মনিপুরা বাজার। পলাশ উপজেলার চর্নগরদী, তালতলী ও ঘোড়াশাল বাজার।
এছাড়া নিয়মিত এ হাটগুলোর পাশাপাশি কোরবানি উপলক্ষে বসেছে অস্থায়ী আরো ৭৩টি গরু, মহিষ ও ছাগলের হাট। তবে স্থায়ী হাটগুলো জমে উঠলেও অস্থায়ী হাটগুলো এখনো তেমন একটা জমজমাট হয়ে উঠেনি।

বৃহস্পতিবার রায়পুরা উপজেলার মনিপুরা পশুর হাটে গিয়ে দেখা গেছে, ছোট-বড় ও মাঝারি আকারের অসংখ্য দেশীয় গরু হাটে উঠেছে। ৩০ হাজার থেকে শুরু করে তিন লাখ টাকার গরুও হাটে এসেছে। এছাড়া হাটে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক মহিষ ও ছাগল নিয়ে এসেছেন বিক্রেতারা। তবে বাজারে ক্রেতা অনুসারে পশুর সংখ্যা ছিল অনেক বেশি। হাটের নির্ধারিত জায়গা ছাড়িয়ে হাট ছড়িয়ে পড়েছে আশপাশের পতিত জমি ও সড়কগুলোতে। কিন্তু বিক্রেতারা দাম হাকাচ্ছে অনেক বেশি তাই ক্রেতাদেরকে তাদের সাধ্যমতো দামদর করতে দেখা গেছে। হাট ভর্তি পশু থাকলেও বিক্রি হচ্ছে কম। তবে বিক্রিতাদের চাহিদা অনুসারে দাম না পাওয়ায় অনেকে হাট থেকে পশু ফেরতও নিচ্ছেন।

বাজার ঘুরে দেখা গেছে, বাজারে ছোট আকার গরুর দাম চাওয়া হচ্ছে ৬০ হাজার থেকে ১ লাখ টাকা। মাঝারি আকারের গরু ১ লাখ থেকে ৩ লাখ টাকা পর্যন্ত। ছোট আকারের মহিষের দাম চাওয়া হচ্ছে ৭০ হাজার থেকে ১ লাখ ২০ হাজার টাকা এবং বড় আকার মহিষ দুই লাখ থেকে ৩ লাখ টাকা। ছোট খাসির দাম চাওয়া হচ্ছে ১০ হাজার থেকে ২০ টাকা এবং মাঝাড়ি আকার খাসি দাম চাওয়া হচ্ছে ২০ হাজার থেকে ৩০ হাজার টাকা।

হাটে আবুল কালাম নামে এক মহিষ বিক্রেতা জানান, তিনি গত দুই মাস আগে বিক্রির উদ্দেশে ২ লাখ ৩০ হাজার টাকায় দু’টি মহিষ কিনেছিলেন, লালন পালন করে ঈদে বিক্রি করবেন। এখন বাজারে এনে দেখে তার লোকসান গুণতে হচ্ছে।
এ হাটে গরু কিনতে আসা গোলাম মোস্তফা নামে এক ক্রেতা বলেন, ‘হাটে পছন্দসই গরুর অভাব নেই। তবে বিক্রেতারা দামটা একটু বেশি চাইছেন।’ তবে মাঝারি গরুগুলোর ক্রেতাদের চাহিদা বেশি থাকায় তুলনামূলক দামও একটু বেশি বলে মনে করেন তিনি।
আমির হোসেন নামে এক ব্যাপারি জানান, তিনি নরসিংদীর বিভিন্ন হাট থেকে ছোট ও মাঝারি আকারের গরু, মহিষ কিনে ঢাকা এবং গাজীপুরে নিয়ে বিক্রি করছেন। এবার বিক্রেতারা বলছেন, ঘাস খড়ের পাশাপাশি খৈল, কুড়া, ভুসি প্রভৃতি খাদ্যের দাম একটু বেশি হওয়ায় পশু লালন পালন করতে তাদের একটু বেশি খরচ হয়েছে তাই পশুর দাম তুলনা মূলকভাবে বাজারে বেশি। তাছাড়া এবার ভারতীয় গরুর চাপ না থাকায় স্থানীয় বাজার থেকে একটু বেশি দামে কোরবানির পশু কিনতে হচ্ছে।
এদিকে পশুর হাটগুলোতে জেলা পুলিশ প্রশাসনের পক্ষ থেকেও প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা ব্যবস্থাগ্রহণ করা হয়েছে।

Print Friendly, PDF & Email

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- বিজ্ঞাপন-

জনপ্রিয় সংবাদ

মদনে নলকূপ বসাতে গিয়ে প্রাকৃতিক গ্যাসের সন্ধান

শহীদুল ইসলাম, মদন (নেত্রকোনা) প্রতিনিধি : নেত্রকোণা মদন উপজেলায় গত ৭ জুলাই মঙ্গলবার সদর ইউনিয়নে কুলিয়াটি গ্রামে প্রয়াত সাংবাদিক শাহজাহান ভূঁইয়ার বাড়িতে...

উত্তরা পশ্চিম থানা প্রেসক্লাবের নব-নির্বাচিত কমিটির সাথে মতবিনিময় করেন ৫০ নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর আলহাজ্ব ডি.এম.শামীম

আরবান ডেস্ক : রবিবার (১২ জুলাই) সকাল সাড়ে ১১ টায় উত্তরা পশ্চিম থানা প্রেসক্লাবের উদ্যোগে এই মতবিনিময় সভায় প্রেসক্লাবের প্রতিষ্ঠাতা বীর মুক্তিযোদ্ধা...

টঙ্গিবাড়ী গোপীনপুরে প্রতিপক্ষের দখলের ভয়ে রাত জেগে জমি পাহারা

মোঃ লিটন মাহমুদ, মুন্সীগন্জ প্রতিনিধি : মুন্সীগন্জ জেলার টঙ্গিবাড়ী উপজেলার গোপীনপুরে এলাকায় প্রতিপক্ষের দখলের ভয়ে রাত জেগে জমি পাহারা দিচ্ছেন জমির প্রকৃত...

নেত্রকোনার মোহনগঞ্জে এক রাতে ৫টি গরু চুরি; কৃষকরা আতংকে

এ কে এম আব্দুল্লাহ্, বিশেষ প্রতিনিধি : নেত্রকোনা জেলার মোহনগঞ্জ উপজেলার করাচাপুর গ্রামে একটি সংঘবদ্ধ চুরের দল শুক্রবার রাতে আঙ্গুর মিয়ার বাড়ী...

মতামত

Print Friendly, PDF & Email