Home ব্যবসা-বাণিজ্য তৈরি পোশাক খাতে উৎকণ্ঠা কমেই চলেছে রফতানি আয়

তৈরি পোশাক খাতে উৎকণ্ঠা কমেই চলেছে রফতানি আয়

নিজস্ব প্রতিবেদক: দেশের রফতানি আয়ের হৃৎপিণ্ড তৈরি পোশাক খাতে উদ্বেগ বাড়ছে। চলতি ২০১৯-২০ অর্থবছরের প্রথমার্ধের (জুলাই-ডিসেম্বর) রফতানির তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যায় যেসব দেশে বাংলাদেশের তৈরি পোশাক রফতানি হয় তার প্রায় সবগুলোতেই আয় কমেছে আশঙ্কাজনক হারে। কোনো দেশে আয় কমেছে ৬৩ শতাংশ, কোথাও ৫৮ শতাংশ, আবার ইউরোপ-আমেরিকায় আয় কমেছে ৩ থেকে ৬ শতাংশ। পোশাক রফতানিতে এভাবে আয় কমাকে শিল্পের এবং দেশের জন্য অশনিসঙ্কেত বলে মনে করছেন শিল্প উদ্যোক্তা ও অর্থনীতিবিদরা।
আগের অর্থবছর অর্থাৎ ২০১৮-১৯-এ তৈরি পোশাক খাত থেকে মোট রফতানি আয় হয় ৩৪ বিলিয়ন ডলার। চলতি ২০১৯-২০ অর্থবছরে এ খাত থেকে রফতানি আয়ের লক্ষ্যমাত্রা ৩৮ বিলিয়ন ডলারেরও বেশি। এর মধ্যে জুলাই থেকে ডিসেম্বর এই ছয় মাসে পোশাক রফতানি থেকে আয়ের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয় সাড়ে ১৮ বিলিয়ন ডলার। অথচ এই সময়ে আয় হয়েছে ১৬ বিলিয়ন ডলার। অর্থাৎ লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ছয় মাসে পোশাক রফতানি কম হয়েছে ২ বিলিয়ন ডলারেরও বেশি। তা ছাড়া ২০১৮-১৯ অর্থবছরের প্রথম ছয় মাসের চেয়েও এ বছরের ছয় মাসে পোশাক রফতানি কমেছে এক বিলিয়ন ডলার। গত বছর ছয় মাসে পোশাক থেকে রফতানি আয় আসে ১৭ বিলিয়ন ডলারেরও বেশি।
এ বিষয়ে গবেষণা প্রতিষ্ঠান সেন্টার ফর পলিসি ডায়লগের (সিপিডি) গবেষণা পরিচালক ড. খন্দকার গোলাম মোয়াজ্জেম হোসেন গণমাধ্যমকে বলেন, তৈরি পোশাকে রফতানি আয় কমার প্রধান কারণ হলো বিশ^বাজারে চাহিদা কমে যাওয়া। চীন-মার্কিন বাণিজ্য যুদ্ধ এবং ব্রিটেনের ব্রেক্সিটের প্রভাবও রয়েছে এতে। যেসব দেশ আমাদের দেশ থেকে পোশাক আমদানি করে তারা ক্রয় আদেশ কমিয়ে দিয়েছে। কারণ বাণিজ্য যুদ্ধের কারণে এসব দেশের মানুষের আয় কমে গেছে। এর প্রভাবে দেশের তৈরি পোশাকের রফতানি আয়ও কমে গেছে।
তিনি বলেন, আয় কমে যাওয়ায় এই শিল্পে এবং দেশের অর্থনীতিতেও এর নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে। শিল্পে নতুন বিনিয়োগ কমে গেছে, নতুন কর্মসংস্থান কমে গেছে, অনেক ক্ষেত্রে শ্রমিকরা বেকার হচ্ছে। বিজিএমইএ বলছে ৫৮টি পোশাক কারখানা বন্ধ হয়েছে। অবশ্য নতুন করে স্থাপনও হয়েছে ৫৭টি কারখানা। এগুলো মূলত বড় কারখানা। গৎবাঁধা পোশাক তৈরি থেকে সরে এসে বহুমুখী পোশাক তৈরির দিকে নজর দিতে হবে। তবেই এই সঙ্কট থেকে নিজেদের রক্ষা করা যাবে। এভাবে সফল হয়েছে ভিয়েতনাম। তবে পোশাক রফতানি আয়ের যে তথ্য পাওয়া যায় তাতে কিছুটা গরমিল থাকে। এর কারণ অবশ্য আছে। ইপিবি মূলত ডাটা (তথ্য) নেয় পণ্য শিপমেন্টের সময়, আর বাংলাদেশ ব্যাংক তথ্য নেয় রফতানির অর্থ আসার সময়ে। এ কারণে তথ্যে কিছুটা তারতম্য আছে।
দেশের পোশাক শিল্পের প্রধান দুই বাজার ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। গত ছয় মাসে ইইউতে পোশাক রফতানি আয় কমেছে ৬ দশমকি ৭৫ শতাংশ। এই সময়ে ইউরোপে আয় হয়েছে ৯৮২ কোটি ২৫ লাখ ৯০ হাজার ডলারের। অথচ গত বছরের একই সময় রফতানি হয় ১ হাজার ৫৩ কোটি ৩৩ লাখ ৫০ হাজার ডলারের। অর্থাৎ গত বছরের প্রথমার্ধের চেয়ে চলতি বছরের প্রথমার্ধে ইউরোপে পোশাক রফতানি কমেছে ৭১ কোটি ৭ লাখ ৬০ হাজার ডলারের। বাংলাদেশি টাকায় দাঁড়ায় ৫ হাজার ৮৯৯ কোটি ৩০ লাখ ৮০ হাজার (১ ডলার = ৮৩ টাকার হিসাবে)।
একক দেশ হিসাবে দেশের তৈরি পোশাকের সবচেয়ে বড় বাজার মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। দেশটিতে ছয় মাসে পোশাক রফতানি কমেছে ৩ দশমিক ৬৭ শতাংশ। দেশটিতে ছয় মাসে রফতানি হয়েছে ২৯৭ কোটি ৯১ লাখ ৮০ হাজার ডলারের। গত বছর হয়েছিল ৩০৯ কোটি ২৫ লাখ ৪০ হাজার ডলারের। গত বছরের চেয়ে কম হয়েছে ১১ কোটি ৩৩ লাখ ৬০ হাজার ডলারের। টাকার অঙ্কে যা হয় ৯৪০ কোটি ৮৮ লাখ ৮০ হাজার টাকা।
তৈরি পোশাকের অন্যান্য বাজারের দিকে তাকালে দেখা যায় শতাংশের হিসাবে সবচেয়ে বেশি আয় কম হয়েছে চেক রিপাবলিকে ৬৩ শতাংশ। তা ছাড়া লিথুয়ানিয়ায় ৫৮ শতাংশ, হাঙ্গেরিতে ৫৫ শতাংশ, বুলগেরিয়ায় ৫১ শতাংশ, লাটভিয়ায় ৫০ শতাংশ, ব্রাজিলে ৩২ শতাংশ, চীনে ২৩ শতাংশ, ইতালিতে ১৩ শতাংশ, কানাডায় ১১ শতাংশ, জার্মানিতে ১০ শতাংশ এবং ফ্রান্সে ৭ শতাংশ আয় কম হয়েছে।
তৈরি পোশাক রফতানি আয় আশঙ্কাজনক হারে কমে যাওয়াকে খুবই উদ্বেগের বিষয় বলে উল্লেখ করেছে এ খাতের উদ্যোক্তারাও। এ বিষয়ে পোশাক শিল্প মালিকদের সংগঠন বিজিএমইএ’র সহসভাপতি আরশাদ জামাল দিপু সময়ের আলোকে বলেন, পোশাক শিল্প মালিকরা এখন নানামুখী চাপে খুবই সঙ্কটে আছে। একদিকে পোশাক রফতানি আদেশে ভাটা পড়েছে, কমে গেছে পোশাকের বিক্রয় মূল্য। অন্যদিকে মজুরি বৃদ্ধি, গ্যাস-বিদ্যুতের দাম বৃদ্ধি এবং কারখানার সংস্কার ব্যয় বেড়েছে। এসব কারণে শিল্প মালিকদের অবস্থা এখন ভালো না। অনেকেই কারখানা বন্ধ করে দিচ্ছে। গত কয়েক মাসে বন্ধ হয়েছে ৫৮টি পোশাক কারখানা। এতে বেকার হয়েছে কয়েক লাখ শ্রমিক। মোট কথা তৈরি পোশাক শিল্প এখন খুবই খারাপ সময় পার করছে। আমরা ভালো সময়ের অপেক্ষায় আছি।

Print Friendly, PDF & Email

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- বিজ্ঞাপন-

জনপ্রিয় সংবাদ

ধলামূলগাঁও ইউনিয়নের উপ-নির্বাচনে আওয়ামীলীগের প্রার্থী হিসেবে নৌকা প্রতীক পেলেন এসএম আব্দুল হালিম

মো: জায়েজুল ইসলাম : সকল জল্পনা-কল্পনার অবসান ঘটিয়ে অবশেষে নেত্রকোনা জেলার পূর্বধলা উপজেলার ধলামূলগাঁও ইউনিয়ন পরিষদের উপ-নির্বাচনে আওয়ামীলীগের প্রার্থী হিসেবে নৌকা প্রতীক...

মাস্ক পরে মসজিদে যাওয়ার পরামর্শ প্রধানমন্ত্রীর

আরবান ডেস্ক : করোনাভাইরাস মোকাবিলায় মসজিদে নামাজ আদায়ের সময় মাস্ক পরার পরামর্শ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। সোমবার মন্ত্রিপরিষদের বৈঠকে ধর্ম মন্ত্রণালয়কে এই...

দেশে করোনায় মৃত্যু প্রায় ৫ হাজার

আরবান ডেস্ক : করোনাভাইরাস সংক্রমিত কভিড-১৯ রোগে আক্রান্ত হয়ে দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় ৪০ জন মারা গেছেন। এ নিয়ে এখন পর্যন্ত মারা...

নেত্রকোনার পূর্বধলায় পোনা মাছ অবমুক্তকরণ

সুহাদা মেহজাবিন : নেত্রকোনার পূর্বধলায় উপজেলা প্রশাসন ও মৎস্য অধিদপ্তরের আয়োজনে রাজধলা বিলসহ কয়েকটি জলাশয়ে পোনামাছ অবমুক্ত করা হয়েছে। ২০২০-২১ অর্থবছরের রাজস্ব...

মতামত

Print Friendly, PDF & Email