ড্র করলেই শিরোপা বাংলাদেশের

0
56

আরবান ডেস্ক : লড়াইটা বাংলাদেশ জানে। পূর্বেও এর প্রমাণ পেয়েছে ফুটবলপ্রেমীরা। প্রধান কোচ জেমি ডে আবারও করোনা পজিটিভ হয়েছেন। গোলরক্ষক রয়েছেন ইনজুরিতে। আর করোনা মহামারীর আতঙ্ক তো রয়েছেই। ফিফার গাইডলাইন মেনেও শেষ রক্ষা হচ্ছে না। এদিকে দুরন্ত ফুটবলের জন্য মানুষের চোখ এখন ফুটবলে। প্রথম ম্যাচের পারফরম্যান্সের জন্য সবাই এখন দ্বিতীয় ম্যাচ মাঠে বসে দেখতে চান। কাল ফুটবল ফেডারেশন ভবনের সামনে টিকিট সংখ্যা বাড়ানোর জন্য আন্দোলনও হয়েছে। ৯ থেকে ১০ হাজার লোক হয়তো খেলা দেখতে আসবেন। তবে বাফুফের সাধারণ সম্পাদক আবু নাইম সোহাগ কড়া হুশিয়ারি দিয়েছেন। মাস্ক অবশ্যই নিয়ে আসতে হবে গ্যালারিতে। আর স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলাচল করার পাশাপাশি গ্যাালারিতে দূরত্ব বজায় রেখে বসে খেলা উপভোগ করতে হবে। দুই ম্যাচের মুজিববর্ষ ফিফা আন্তর্জাতিক প্রীতি ফুটবল ম্যাচ সিরিজের প্রথম ম্যাচে সফরকারী নেপালকে হারিয়েছে স্বাগতিক বংিলাদেশ। ২-০ গোলের উড়ন্ত সূচনার পর এবার দ্বিতীয় ম্যাচেও জয় চায় বাংলাদেশ জাতীয় ফুটবল দল। সিরিজের দ্বিতীয় ম্যাচটি আজ বিকাল ৫টায় বঙ্গবন্ধু জাতীয় স্টেডিয়ামে (বিএনএস) শুরু হবে। ম্যাচটি সরাসরি সম্প্রচার করবে বাংলাদেশ টেলিভিশন। সরাসরি ধারাভাষ্য সম্প্রচার করবে বাংলাদেশ বেতার। ইতোমধ্যে সিরিজে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে থাকার কারণে আজ সফরকারী নেপালের সঙ্গে ড্র করতে পারলেই সিরিজ নিশ্চিত হয়ে যাবে বাংলাদেশের। অপরদিকে প্রথম ম্যাচে হারের কারণে এটি হবে সিরিজ বাঁচানোর জন্য নেপালিদের মরা-বাঁচার লড়াই। বাংলাদেশের অধিনায়ক জামাল গতকাল কথা বলেছেন। তিনি বলেন, ‘আগের ম্যাচে প্রথমার্ধ ভালো ছিল। দ্বিতীয়ার্ধে আমি ১০-১৫ মিনিট খেলছি। প্রথমার্ধ দারুণ ছিল, দ্বিতীয়ার্ধে কষ্ট করতে হয়েছে। শুধু প্রথমার্ধে ভালো খেললে চলবে না, দুই অর্ধেই ভালো খেলতে হবে। আগামীকাল (মঙ্গলবার) সেটাই আমাদের লক্ষ্য। তবে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হচ্ছে দল কেমন খেলেছে। সে হিসেবে প্রথম ম্যাচের পারফরম্যান্সে আমি খুশি। জেমি থাকুক আর না থাকুক, আমাদের মনোযোগ একই থাকবে। জেমি বা স্টুয়ার্ট ওয়াটকিস যে-ই থাকুন, খেলার নির্দেশনা ও ট্যাকটিক্যাল ব্যাপারগুলো একই। জেমি না থাকলেও বড় সমস্যা হবে না। জেমি এরই মধ্যে আরও কঠিন প্রতিপক্ষের বিপক্ষে খেলার আবেদন করেছে। কারণ কাতার কোস্টারিকা ও দক্ষিণ কোরিয়ার বিপক্ষে খেলবে। আমাদেরও কঠিন প্রতিপক্ষের বিপক্ষে খেলা প্রয়োজন।’
সর্বশেষ ২০০৩ সালে সাফ চ্যাম্পিয়নশিপের শিরোপা জয়ের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক টুর্নামেন্টে সাফল্য পেয়েছিল বাংলাদেশ ফুটবল দল। এর পর গোটা এক যুগের বেশি সময় পার হলেও আর কোনো শিরোপার দেখা পায়নি তারা। সাফ চ্যাম্পিয়নশিপে যেমন আর কোনো শিরোপা পায়নি তেমনি জয় করতে পারেনি বঙ্গবন্ধু গোল্ডকাপের শিরোপাও। সর্বশেষ হোম ভেন্যুতে ২০১৮ সালে অনুষ্ঠিত সাফ চ্যাম্পিয়নশিপে এই নেপালিদের কাছেই শিরোপা খুইয়েছে বাংলাদেশ। একই বছর বঙ্গবন্ধু গোল্ডকাপের সেমিফাইনালে বুরুন্ডির কাছে ৩-০ গোলে হেরে টুর্নামেন্ট থেকেই বিদায় নেয় লাল সবুজের দল। এটি ঠিক যে সাফ টুর্নামেন্ট কিংবা বঙ্গবন্ধু গোল্ডকাপ অনেক বেশি মর্যাদার। তবে ফিফা প্রীতি ম্যাচের এই সিরিজকেও খুব বেশি খাটো করে দেখার সুযোগ নেই। কারণ দুই ম্যাচের এই সিরিজকে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নামে উৎসর্গ করেছে বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশন। যে কারণে এ সিরিজের নামকরণ হয়েছে ‘মুজিব বর্ষ’ ফিফা আন্তর্জাতিক প্রীতি ম্যাচ সিরিজ। ফলে সিরিজ জয়ের মাধ্যমে একটি ঐতিহাসিক মুহূর্তের সাক্ষী হওয়ার সুযোগ পাচ্ছে জামাল ভূঁইয়ার দল। প্রথম ম্যাচের প্রত্যাশিত জয়টি বাংলাদেশ দলের মানসিক দৃঢ়তা বাড়িয়ে দিয়েছে। ওই জয়টি পরের ম্যাচে আরও ভালো ফুটবল খেলার জন্য দলকে অনুপ্রাণিত করবে। শুধু তাই নয়, এই জয় শক্তিশালী কাতারের বিপক্ষে বিশ্বকাপ বাছাইয়ের আসন্ন ম্যাচে বাংলাদেশ দলকে লড়াই করার মানসিকতা বাড়িয়ে দেবে।

Print Friendly, PDF & Email

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here