খালিয়াজুরীতে ইউপি চেয়ারম্যানের ব্যক্তিগত অফিসে কিশোরী ধর্ষিত; ধর্ষক গ্রেফতার

0
81

সোহান বিন নবাব, খালিয়াজুরী (নেত্রকোণা) : নেত্রকোণার খালিয়াজুরী উপজেলাধীন নগর ইউনিয়নে ১৪ বছরের কিশোরীকে নগর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান দেবেশ তালুকদারের নিজস্ব অফিসে ধর্ষণের অভিযোগে খালিয়াজুরী থানায় ২৫ মে ( বুধবার) বিকেল পৌনে ৫ টায় ধর্ষিতার বাবা বাদী হয়ে মামলাটি দায়ের করেন।
ঘটনাটি ঘটেছে ৫ মে রাত ৮ ঘটিকার সময় ধর্ষিতার বাড়ী থেকে বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে অত্র ইউনিয়নের উদয়পুর গ্রাম হতে নয়াগাও বাজারস্থ চেয়ারম্যান এর নিজস্ব অফিস কক্ষে রাত ১০ ঘটিকা হতে ৩ ঘটিকা পর্যন্ত একাধিকবার দৈহিক সম্পর্ক করে রাতেই পালিয়ে যায় ধর্ষক।
ধর্ষিতা কিশোরী অত্র উপজেলার নগর ইউনিয়নের উদয়পুর গ্রামের অসহায় দিন মজুর হরিধন সরকারের মেয়ে রিমা সরকার (১৪)।

মামলার বাদী হরিধন সরকার এজহারে উল্লেখ করেন ধর্ষক লিটন সরকার (৪০) সুনামগঞ্জ জেলার জামালপুর উপজেলার বিষ্টপুর গ্রামের বাসিন্দা ও সে বিবাহিত। ধর্ষক লিটন সরকার খালিয়াজুরী উপজেলার বল্লভপুর গ্রামে শশুড় বাড়ীতে থেকে ধান কাটার কাজ করত। উদয়পুর গ্রামে ধান কাটার রেস ধরেই ধর্ষিতা রিমার সাথে পরিচয় এবং মোবাইলে কথা বার্তা চলত। মোবাইলে প্রায়শই তাকে বিয়ের প্রস্তাব দিত এমনকি তাকে নিয়ে ঘর সংসার করবে বলে প্রতিশ্রুতি দিয়ে ৫ মে রাত আটটায় রিমাকে নিয়ে দেবেশের অফিসে গিয়ে রিমার ইচ্ছের বিরুদ্ধে জোড় পূর্ব্বক ধর্ষণ করে হৃদয় তালুকদার ও বাড়ী আদমপুর বলে ধর্ষক পালিয়ে যায়। ঐ দিন সকালে হৃদয়কে না পেয়ে রিমা বাজারের লোকদের জিজ্ঞেস করে আদমপুরের হৃদয়ের বাড়ী কোনটা। ধর্ষিতা রিমা আদমপুর হৃদয় সরকারের বাড়ী গিয়ে বসে থাকে। বিষয়টি জানাজানি হয়ে গেলে নগর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান দেবেশ তালুকদার সালিশের মাধ্যমে শেষ করে দিবে বলে আশ্বাস দিলে অত্র ইউনিয়নের উদয়পুর গ্রামের ইউপি সদস্য পল্টু সামন্ত ধর্ষিতা রিমাকে নিয়ে তার গ্রামের বাড়ীতে চলে যায়। কিন্তু ১৫ দিনেও মিলে না কোন বিচার সালিশ। বিচার সালিশ না পেয়ে ধর্ষিতা রিমার বাবা খালিয়াজুরী থানায় এজহার করেন।
এলাকায় জনশ্রুতি রয়েছে ধর্ষক লিটন সরকার নগর ইউনিয়ন চেয়ারম্যান দেবেশের আত্মীয়।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে ইউপি সদস্য পল্টু সামন্ত ঘটনার স্বীকার করে বলেন, ধর্ষিতা রিমাকে চেয়ারম্যানের নির্দেশে আদমপুর থেকে নিয়ে এসেছি সত্য। ঘটনার বিষয়ে তিনি আরও বলেন রাতের বিষয়টি আমি সঠিক বলতে পারব না।
মামলার বাদী ধর্ষিতার বাবার কাছে এ বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমি অনেক চেয়ারম্যানের কাছে বিচার না পেয়ে থানার আশ্রয় নিয়েছি। আমি এই ঘটনার সুষ্টু বিচার চাই। ঘটনাটির বিষয়ে নগর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান দেবেশ তালুকদারের কাছে মুটোফোনে যোগাযোগ করা হলে, তিনি বলেন আমার অফিস আদমপুর। তবে বাজারের যে রুম আছে তা বিট পুলিশিং এর কার্যক্রমের জন্য রাখা। তাতে কে বা কারা মিথ্যা পরিচয় দিয়ে জগন্য ঘটনা ঘটিয়েছে তা আমার বোধগম্য নয়। সালিশের জন্য সময় ক্ষেপন বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, এ ধরনের ঘটনার বিচারতো আমার করা সম্ভব নয়। তাই অপরাধী যেই হোক তদন্ত সাপেক্ষে তার বিচার দাবী করছি। অপরাধী আপনার আত্মীয় এ বিষয়ে তিনি তা অস্বীকার করেন।
খালিয়াজুরী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোঃ মুজিবুর রহমান বলেন, এ বিষয়ে একটি অভিযোগ পেয়েছি। ঘটনার প্রেক্ষিতে ৯(১)২০০০ সালের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন সংশোধনী ২০২০ ধর্ষণ করার অপরাধে মামলা রুজু করে বিজ্ঞ আদালতে ধর্ষককে পাঠানো হয়েছে।

Print Friendly, PDF & Email

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here