Home অর্থনীতি কোম্পানীগঞ্জ পাথর কোয়ারীগুলো বন্ধে লাখ লাখ শ্রমিক বেকার, সরকার হারাচ্ছে কোটি টাকার...

কোম্পানীগঞ্জ পাথর কোয়ারীগুলো বন্ধে লাখ লাখ শ্রমিক বেকার, সরকার হারাচ্ছে কোটি টাকার রাজস্ব

রুহুল আমিন বাবুল, কোম্পানীগঞ্জ (সিলেট) প্রতিনিধি: লাখো শ্রমিকের আর্তনাদ পাথর কোয়ারী বন্ধ, সরকার হারাচ্ছে কোটি টাকার রাজস্ব। পাথরের রাজ্য হিসেবে পরিচিত সিলেট জেলা। এই জেলারই সবচেয়ে বড় পাথর খনি অবস্থিত কোম্পানীগঞ্জ উপজেলায়। যেখানে প্রতিদিন কয়েক লক্ষ মানুষ কাজ করত। যে কাজ করতে পারে না সেও নাকি এখানে দিনে ৩০০-৫০০ টাকা উপার্জন করতে পারে। লাখো শ্রমিকের কর্মক্ষেত্র হিসেবে পরিচিত ছিল এই কোম্পানীগঞ্জ। যেখানে ভোলাগঞ্জ, উৎমা, শাহ আরফিন কোয়ারী গুলোতে প্রতিদিন প্রায় কয়েক লক্ষ মানুষ কাজ করে তাদের জীবিকা নির্বাহ করত। কালের বিবর্তনে আধুনিকতার ছোঁয়ায় কোম্পানীগঞ্জের সবচেয়ে বড় পাথর খনিগুলো এখন বন্ধ। চোঁখের তৃপ্তি আর মনের সাধ মেটানোর জন্য ভোলাগঞ্জ আর উৎমা কোয়ারী দুটিও বন্ধ। ভোলাগঞ্জের পাথরের গুনগত মান এতটাই ভাল যে সমগ্র বাংলাদেশে এই পাথরের চাহিদা ছিল সবার আগে।
প্রতিদিন এই কোম্পানীগঞ্জ থেকে প্রায় ৩লক্ষ সেফটি পাথর দেশের বিভিন্ন প্রান্তে যেত। যা থেকে সরকার ও কয়েক লক্ষ টাকা রাজস্ব আদায় করতে পারত। বিগত ৮বছর থেকে পাথর কোয়ারীগুলো বন্ধ থাকায় সরকার হারাচ্ছে কোটি টাকার রাজস্ব আর শ্রমজীবী মানুষেরা হারিয়েছে তাদের কর্মক্ষেত্র।
৬শত ৪০কোটি টাকা ব্যয়ে তৈরি করা হয়েছে বঙ্গবন্ধু মহাসড়ক যার কাজ প্রায় শেষের পথে। এই মহাসড়ক হওয়ার সাথে সাথে এলাকার মানুষেরও আশার পালে হাওয়া লেগেছে, সরকার হয়তো এবার শ্রমজীবী মানুষের দুঃখ দূর্দশার দিকে তাকিয়ে এবং সরকারের কোটি টাকার রাজস্ব আয়ের কথা চিন্তা করে কোম্পানীগঞ্জের পাথর কোয়ারী গুলো খোলে দিবে।
যে কোম্পানীগঞ্জকে বাংলাদেশের বিভিন্ন অঞ্চলের মানুষ কর্মক্ষেত্র হিসেবে বেঁচে নিত সেই কোম্পানীগঞ্জের মানুষই এখন কর্মহীন হয়ে বসে আছে। একমাত্র শাহ আরফিন পাথর কোয়ারীটি সচ্ছল ছিল বলে ঐ অঞ্চলের লোকজন কিছুটা রুজিরোজগার করে দু’বেলা দুমুঠো খাবার খেয়ে বেঁচে থাকতে পারছে। কিন্তু গত (২৩সেপ্টেম্বর) থেকে এই পাথর কোয়ারীটিও বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। অত্র এলাকার লোকজনের বিকল্প কোন কর্মক্ষেত্র না থাকায় কর্মহীন হয়ে পড়েছেন কয়েক হাজার মানুষ।
কিছু দিন পূর্বে বৃষ্টির সময় যখন এই কোয়ারী বন্ধ ছিল তখন প্রায়ই শুনা যেত ভোলাগঞ্জ সহ অত্র এলাকায় বিভিন্ন জায়গায় চুরি, ডাকাতি সহ বিভিন্ন অপকর্মের কথা। শাহ আরফিন টিলা কোয়ারীটি সচল হওয়ায় এই ঘটনা গুলো কমতে শুরু করে। উপার্জনের উপায় না থাকলে মানুষ অসৎ উপায় বেঁচে নিতে পারে বলে উদ্বেগ প্রকাশ করেন এলাকার সচেতন মহল।
তাই ভোলাগঞ্জ, উৎমা, শাহ আরফিন সহ সকল পাথর কোয়ারী গুলোকে খেটে খাওয়া সাধারন মানুষের কর্মক্ষেত্র হিসেবে খুলে দিয়ে কোম্পানীগঞ্জকে আগের মত কর্মচাঞ্চল্যে ফিরিয়ে আনার জন্য আহ্বান জানান অত্র এলাকার ব্যবসায়ী ও সচেতন মহল।

Print Friendly, PDF & Email

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- বিজ্ঞাপন-

জনপ্রিয় সংবাদ

সম্ভ্যাব্য কাউন্সিলর পদপ্রার্থীর পক্ষ থেকে ঈদ উপহার বিরিণ

আনছার মিয়া সোহাগ, জগন্নাথপুর প্রতিনিধি : সদ্য অনুমোদন প্রাপ্ত বিশ্বনাথ পৌরসভার পুরাতন হাবড়াবাজার এলাকার থেকে সম্ভ্যাব্য কাউন্সিলর পদপ্রার্থী সাইদুর রহমান এর পক্ষ...

চন্দনাইশবাসীকে পবিত্র ঈদ-উল-ফিতর এর শুভেচ্ছা জানান মোঃ শাহাদাত হোসেন মুরাদ :

মোহাম্মদ শাহাদাত হোসেন সিকদার, রাঙামাটি সদর প্রতিনিধি : চন্দনাইশের কৃতি সন্তান, তরণ সমাজ সেবক, নিয়মিত রক্তদাতা, দক্ষিণ চট্টগ্রামের একটি জনপ্রিয় সামাজিক, স্বেচ্ছাসেবী...

পার্বত্যবাসীকে পবিত্র ঈদ-উল-ফিতর এর শুভেচ্ছা জানান মোঃ তৌহিদুল ইসলাম তমাল

মোহাম্মদ শাহাদাত হোসেন সিকদার, রাঙামাটি সদর প্রতিনিধি : রাঙামাটির কৃতি সন্তান, তরুণ সমাজ সেবক, রাঙামাটি সরকারি বিশ্ববিদ্যালয় কলেজের প্রাক্তন ছাত্র, একটি অলাভজনক...

পবিত্র ঈদ-উল-ফিতর এর শুভেচ্ছা জানান মোঃ আকবর হোসেন

মোহাম্মদ শাহাদাত হোসেন সিকদার, রাঙামাটি সদর প্রতিনিধি : রাঙামাটি পার্বত্য জেলার কৃতি সন্তান, তরুণ সমাজ সেবক, নিয়মিত রক্তদাতা ও একটি সামাজিক স্বেচ্ছাসেবী...

মতামত

Print Friendly, PDF & Email