একা এবং অনন্য সাকিব আল হাসান

0
52

আরবান ডেস্ক : তাঁর হাত ধরেই নতুন বছরে অনন্য দুটি উপহার মিলেছিল বাংলাদেশের। ছয় বছর আগে-পরের জানুয়ারি যে দেখেছিল অর্জনের চূড়ায় বসা এক বাংলাদেশিকেই, যিনি ক্রমাগত ওপরে ওঠার সিঁড়ি ভেঙেছেন। একে একে সব প্রতিদ্বন্দ্বীকে পেছনে ফেলে শীর্ষেও পৌঁছেছেন। সেই শীর্ষস্থানচ্যুতও হয়েছেন কখনো কখনো। তবে বারবার নিজের সক্ষমতার জানান দিয়ে তা পুনরুদ্ধারও করেছেন কতবার!
মাঠের পারফরম্যান্সের মহিমায় সবার সেরা হয়ে থেকেছেন যত দিন, ঠিক তত দিনই তাঁর পাশাপাশি উচ্চারিত হয়েছে বাংলাদেশের নামও। বিশ্ব ক্রিকেটের শীর্ষ অলরাউন্ডার হিসেবে দেশের পতাকা তুলে ধরা সেই চরিত্রটি সাকিব আল হাসান, যাঁর আগে-পরে বাংলাদেশের ইতিহাসে এমন আর কেউ আসেননি, যিনি কোথাও কোনো ক্ষেত্রে লম্বা সময় শীর্ষে থেকে দেশের অনুপম এক বিজ্ঞাপন হয়ে উঠতে পেরেছেন।
খেলাই শুধু নয়, অন্যান্য ক্ষেত্রেও বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক অর্জন আছে। আছে বুক ফুলিয়ে বলার মতো সাফল্যও। আছে গৌরবে বুকের ছাতি ফুলে যাওয়ার মতো কীর্তিও। কিন্তু এমন একটি ক্ষেত্র কি আছে, যেখানে বলা গেছে যে ‘সেরা আমাদেরই লোক?’ এখানেই ক্রিকেটার সাকিব একা এবং অনন্য। সেই সঙ্গে অদ্বিতীয়ও।
দেশ যখন স্বাধীনতার সুবর্ণ জয়ন্তী উদযাপন করার অপেক্ষায়, তখন পেছন ফিরে তাকালে সাকিবের এই ব্যক্তিগত অর্জনও উজ্জ্বল নক্ষত্রের আলোই ছড়ায়। ৫০ বছর বয়সী বাংলাদেশের ইতিহাসে তাই মাগুরার এই তরুণের নাম সোনার অক্ষরে লিখতেই হয়। এমন নয় যে বারবার র‌্যাংকিংয়ের শীর্ষে উঠেই শুধু বাংলাদেশকে গৌরবে ভাসিয়েছেন তিনি, বরং মাঠের পারফরম্যান্স দিয়ে আরো কত অর্জনের মালা যে গেঁথেছেন সাকিব। এই সেদিনও আইসিসির দশকসেরা ওয়ানডে দলে দিব্যি জায়গা করে নিয়েছেন। গত দশকে ওয়ানডেতে সাকিবের সবচেয়ে ভালো পারফরম্যান্স ইংল্যান্ডে হওয়া ২০১৯ বিশ্বকাপে, ব্যাটে-বলে করেছেন অবিশ্বাস্য এক প্রদর্শনীও। আট ইনিংস খেলে ৮৬.৫৬ গড় ও ৯৬.০৩ স্ট্রাইক রেটে করেছিলেন ৬০৬ রান। বল হাতে উইকেট ছিল ১১টি, যা বিশ্বকাপ ইতিহাসেরই সেরা অলরাউন্ড পারফরম্যান্সের উদাহরণ হয়ে গেছে। এর আগে যে বিশ্বকাপের এক আসরে ১০ উইকেটের পাশাপাশি ৪০০ রানও ছিল না কারো।
এমন পারফরমারের লম্বা সময় ধরে অলরাউন্ডারদের র‌্যাংকিংয়ের শীর্ষে থাকায় তাই আশ্চর্যের কিছুই নেই, যদিও জুয়াড়ির প্রস্তাব গোপন করে পাওয়া এক বছরের নিষেধাজ্ঞা তাঁর ক্যারিয়ারে কালির ছোপ ফেলেছে কিছুটা। কিন্তু বছরখানেক খেলার বাইরে থাকার পরও কোনো কোনো ফরম্যাটে তাঁর অবস্থানে নড়চড়ই হয়নি। এ ক্ষেত্রে অবশ্য করোনাভাইরাসের কারণে বছরজুড়ে একের পর এক খেলা স্থগিত হওয়াও একটি কারণ। তবে সেটি নিষিদ্ধ হওয়ার আগে তাঁর প্রভাববিস্তারী পারফরম্যান্সের ছাপও রাখছে। গত ২৯ অক্টোবর নিষেধাজ্ঞা শেষ হওয়ার পরপরই ওয়ানডে অলরাউন্ডারদের শীর্ষস্থান ফিরে পেয়েছেন সাকিব। ৪ নভেম্বর আসে সুখবরটি, যা গত দশক ধরেই ছিল নিয়মিত ঘটনা।
ওয়ানডের অলরাউন্ডারদের শীর্ষস্থান দখল করেই এর শুরু সেই ২০০৯ সালের ২১ জানুয়ারি। সুবাদে বাংলাদেশের জন্য তা হয়ে যায় আনন্দের জানুয়ারিও। ওই প্রথম! এরপর আর পেছন ফিরে তাকাতে হয়নি সাকিবকে। একের পর এক চূড়া ছুঁয়েছেন। একে একে অলরাউন্ডারদের শীর্ষস্থান দখল করেছেন টি-টোয়েন্টি আর টেস্ট ক্রিকেটেও। বিশ্বের সেরা অলরাউন্ডার কে? এই প্রশ্নে বেশ ঝামেলায়ই পড়তে হতো একসময়। কারণ ক্রিকেটের সংস্করণ তো তিনটি। একেক সংস্করণে একেকজন শীর্ষে ছিলেনও। তবে ২০১৫ সালের ১২ জানুয়ারি সাকিব সেই ঝামেলা থেকেও মুক্তি দেন। একই সঙ্গে তিন সংস্করণের সেরা অলরাউন্ডারের আসনও দখলে চলে আসে তাঁর। সব সংস্করণেই কোনো ক্রিকেটারের শীর্ষ অলরাউন্ডার হওয়ার প্রথম ঘটনাও কিন্তু ক্রিকেট ইতিহাসে সেটিই।
শীর্ষ থেকে পা হড়কেও গেছে কখনো কখনো। তবে সেখান থেকে ঘুরে দাঁড়াতেও সময় লাগেনি তাঁর। প্রথমবার তিন সংস্করণেই এক নম্বর অলরাউন্ডারের রাজত্ব টেকে মাত্র ৯ দিন। ২০১৫ সালের মার্চে অস্ট্রেলিয়া-নিউজিল্যান্ডে বিশ্বকাপ শুরুর আগেই তা পুনরুদ্ধারও করেন তিনি। সেটি দ্রুতই আবার হারান। দ্রুতই সেটি আবার নিজেরও করে নেন। একই বছরের জুনে তৃতীয়বারের মতো বিশ্বসেরা অলরাউন্ডারের ‘ত্রিমুকুট’ মাথায় তোলা সাকিব নিয়মিত পারফরম্যান্সের ফুল ফুটিয়ে গেছেন যেমন, তেমনি র‌্যাংকিংয়ের শীর্ষস্থানও সঙ্গ ছাড়েনি তাঁর। এভাবেই একটি দশকজুড়ে সেরাদের সেরা হয়ে নয়তো সেরাদের কাতারেই।

Print Friendly, PDF & Email

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here